শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

স্রোতস্বতীর বৈরাতকাল

স্রোতস্বতীর বৈরাতকাল

ফয়সল অভি


গলে গলে গলছে পর্বত গড়িয়ে স্রোতস্বতীরা
আপ্লুত জন্মে কাঁচা জমিন খলখলে তাদের আবেগ
কচি প্রসবে কান্নায় ফলন, সংস্রব, জীবিকা;
সংবাদে কোথাও কোথাও স্বপরিবারে পাখির ঝাঁক
সাহস বাস একদম পাঁচিল কেটে ঘেঁষা
আবার কেউ কেউ চাদরে পাড়ি মফস্বল
মুড়ির-টিন যোগযোগ ড্রইং রুমে পানি সম্পদ;
ধীরে ধীরে জানাজানি ঘুমন্ত যৌবন
পদ্ম, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা
নীরদের গানে, ঋতুর প্রসব বেলায় বৈরাত পালকি
ওরা যায় ছলকে ছলকে, ঢেউ এ ঢেউ এ হুনহুনাহুনহুন ।
আগুন পথ হাঁটে পথের যত রূপ; পোড়াটাও পুড়ে পোড়ায় সবুজ, ছাঁদের জোৎস্না
শবের বিছানা, ঈশ্বরখানা, বৈদেশিক থুতু চাটা অবশিষ্ট নমুনা
পোড়ে পাড়াময় দাউ দাউ করে গিলে
সং ভেঙ্গে সার, আঁচলও আঁচল জড়ায় তলায় তাঁত স্বর
জলে জলজ লাটিমের শৈশব,কানামাছির জট্লা
ইসকুলও পালায় জোনাকির, দৃশ্য বন্দী জাহাজী বনায়ন
লাল ভিটে জানালা, জলুস বৃদ্ধের শেষ অন্নও যায়
প্রান্তে মহাসড়ক, দেশের ভেতরই শিবির উদ্বাস্তু
চোখ চোখে তাকিয়ে, দেশবাসীর চলমান ছবিয়াল উৎসব
লড়াইয়ে দুর্যোগজীবির কচ্ছপ কামড়, থামার থামা নেই ;
তাড়নায় কামনা আহা! যৌবন বয় কড়কড়ে স্রোতস্বতী ছলাৎ ছলাৎ হুঙ্কার..........
কাল বৈরাতে ফতোয়ার মুরব্বিরা, প্রকল্প ছোবল যাত্রা কাঁধে
একদম গলায় গলা বেধে, বালি পর্দা শত শত হাত
যদিও বেহায়া, জলজবতীর বৈরাত ঘোমটা
আবারও চক্র, চক্কর দায় ঘুরে ঘুরে প্রসববতীর বৈরাত
গলছে গলাছে, খসছে খসছে, খণ্ড খণ্ডে
তাড়নায় কামনা আহা! যৌবন বয় কড়কড়ে স্রোতস্বতী ছলাৎ ছলাৎ হুঙ্কার..........

 

প্রতিদান

প্রতিদান

ফয়সল অভি


না; একদম ভাল লাগছে না
আর কাক ভেজা হয়ে তীর্থের বৃষ্টি
মন আর মানছে না,
ক্ষয়ে যাওয়া পিচের পথ এখনও অপেক্ষায়
বিষন্ন হাওয়া মাঝে মাঝে দূর থেকে দূরে
ছুঁয়ে যায় ক্লান্ত দৃষ্টি নোনা শরীর ও দীর্ঘশ্বাস;
যেখানে শঙ্কায় বজ্রপাত, আগে আলো তারপর পরিণতি
ঐ যেন পরিচিত শলিকটা অবিরাম গাইছে
তবুও সাদা কাশফুল আজ বড়ই চুপচাপ,
কোথাও যেন নদীর স্রোত নেই
সেই যে গেলে নীলের খোঁজে চেনা সীমানায়;
কত শত ছবি আঁকি, শুধুই রেখা বালির ভাঁজে
এখনও আমি দাঁড়িয়ে পুরনো মেঠো রাস্তায়

কাদা মাটি শেষ হয়ে রুক্ষ পাথর
তবুও তোমার পায়ে ফেরার চিহ্ন নেই
স্বাগত সুরে গর্ভবতী আকাশ প্রসব করেছে আগেই,
আজও জানলাটা খুললে না চিঠির খোঁজে
আর কত বয়ে যাওয়া নিয়মের মাঝে
আর কত যৌবন খোলস বদলালে যমুনায় ঢেউ হবে

এই প্রশ্নের জবাব আমি নিবোই
হয়ত নারী, রক্তাক্ত ধ্যানে;
এই তৃষ্ণার্ত সময়ের প্রতিদান আমি দিবোই
হোক অসীম আয়না যতই জমিনে

শহরে সভ্যরা দাঁড়িয়েই ঘুমায়

শহরে সভ্যরা দাঁড়িয়েই ঘুমায়

ফয়সল অভি


কংক্রিট নগরে শিশির জমে না কুয়াশার দূষণজ্বর
সূর্য তো বেশ ক‌’বছর ধরে সাদা বেডে কাতরাচ্ছে
ওটাকে ক্রমাগত ধর্ষণ করেছে
উচু তারও উচু দালান ও সামগ্রিক উন্নয়ন পিপাসা
পরিশেষে জলাবদ্ধতা ও বিশৃঙ্খল এবং
মানচিত্রের শাখা-প্রশাখা গুলো সরকারী হাসপাতালে
সময়ের কাটাছেঁড়ার অপেক্ষায়

চোখে চশমা নেই যে রঙ্গিন হবো
তাই প্রতিটি রঙ আমার কাছে দৃশ্যত সম্ভব,
অতঃপর মেনে নিয়ে পরিণত নাগরিকদের ভিড়ে
কর্পোরেট মুখোশে আধুনিক আয়নায় যত বিজ্ঞাপন;
“সবুজের ছায়ায় এক স্বপ্নের আবাস, মূল শহরের খুব কাছেই”

আড়াল থেকে স্রোতে ভিন্নতার পোশাকে
এখন কান পাতলেই কামের শব্দ শোনা যায়
কেননা দেয়ালেরও থাকার জায়গা নেই
তবুও জলপাই রঙ্গের প্রাচীর অবিরত
জানলার শেষে অদেখা শৈশবটা রেখেই যায়,
যেন নিঃশ্বাস নিয়ে বসবাস ক্রমশঃ
পাঠ্য বইয়ে বিতর্কিত চেনা অজানা ইতিহাস

যেন স্বাভাবিকদের কোলাহলে রাজপথ ফুটপাথ, এগলি ওগলি,
বিল ঝিল নদী, ঐ ছোট্ট ঘাসহীন মাঠ, সংসদভবন,
মসজিদ মন্দির, চুপিচুপি বলি; ঐতিহ্যের সেই নন্দিনীও আজ প্রাসাদ ছাড়া,
বিতর্ক, ব্যানার, কলাম, প্রবন্ধ ও মিছিলে; টকশো, আবেদন, মানববন্ধন ও স্লোগানে
মধ্যরাতের খবরে এবং কবিতার নির্বাক শব্দে
আমার একটাই সংলাপ
শহরে সভ্যরা দাঁড়িয়েই ঘুমায়

বরষ পক্ষীর পরিণয়লিপি

বরষ পক্ষীর পরিণয়লিপি

ফয়সল অভি


মেঘবতী আকাশ থৈ থৈ রূপে আজ অহঙ্কারী
জ্বালিয়ে নিঃসত্ত্ব ভেজা মাটির অবসন্ন ভোর, দুপুর ও বার্ধক্য বিকেল;
এ ঋতুয় পাড়ার লোকেরা তৃষ্ণার্ত দ্যামাগের বড়ই বিক্ষেপ
যেন অপ্রকাশিত চাপা রোষ শিল্পপাড়ার উষ্ণত্ব অগ্রহায়ণে,
উঠন বাঁধ আষাঢ়-জায়নামাজে বুড়ো কাকেরা
আক্ষেপ সুরে দেয় সহস্র অভিশাপ
তবুও প্রখর নৃত্য পাড়াময় অস্তিত্বের কামগন্ধের চলন
ফলাফল; পিচের লোলুপ মরীচিকায় অসহ্য ইচ্ছের চাপানো ফতোয়া
প্রতিরোধে বিপ্লবী স্লোগান নিয়ে অন্দরমহলে আমার সভা
সিন্ধান্ত; বরষ পক্ষীর পরিণয়লিপি একগুঁয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর : -

"ঈশ্বর আজ একটু আগেই বিছানায় যেও
তাণ্ডবলীলার খণ্ডে খণ্ডে উদ্দাম বর্ষণ এর উৎস হয়ও,
বাদামী চামড়ার বাড়ন্ত তৃপ্তির বলি এখনি চড়ালাম
ঈশ্বর আজ একটু আগেই বিছানায় যেও" ।
 

পৃথিবীর ঈশ্বর

ফয়সল অভি


ধূসর দেয়ালে সাদা ঘরের ঠিক পশ্চিমে
সাদা পেটের কালো মাকড়সা
চোখাচোখি অষ্টাদশী গর্ভবতীর অনেক স্বপ্নে,
দুইটি প্রজাতির অবিরাম কষ্টের সুখ
নতুন আগমনের ভোর স্নিগ্ধতায় ।

জন্ম সহস্র মাকড়সা ধীরে ধীরে
খাবার হয়ে মৃত্যু যে জন্মদাত্রী,
অসীম প্রসবে স্বর্গ দরজা হয়ে যে শিশু কাঁদে
মা হয়ে সে নারী নক্ষত্র পৃথিবী আকাশে ।

মাতৃত্বের বন্ধনে মহাবিশ্বের ঈশ্বরও অসহায়
মৃত্যুকে মুচকি হাসিতে অনির্বাণ - পৃথিবীর ঈশ্বর মা ।

রতিক্রিয়ার পরবর্তী উপলব্ধি

রতিক্রিয়ার পরবর্তী উপলব্ধি

ফয়সল অভি



দেয়ালে অল্প আলোর সবুজ বাতি
লণ্ডভণ্ড গোছানো সামগ্র্য ভূ-খণ্ড
ঘোলাটে চোখ জমাট বাঁধা রক্ত শরীর
পাহাড় চূড়ায় স্বর্গ ছুঁয়ে অঝোর বৃষ্টি
এখনি থামল;
নোনা স্রোত ক্লান্ত তপ্ত হয়ে এখন শীতল
উচু উচু নিশ্বাস
রতিক্রিয়ার সদ্য যাত্রায় সমাপ্তি
ঐশ্বরিক অনুভূতি তীব্র সীমায়
শেষ ক্ষণস্থায়ী,
অতঃপর ঈশ্বরের সৌন্দর্য যে নারীতে
উত্তাল ভ্রমণ ছিল খানিক আগে
মায়াহীন মাংস খণ্ড পড়ে থাকে
খুব কাছে দূরত্বের বাইরে,
জোয়ারে ভিজে লবণাক্ত নদীর মতো
সাময়িক পানের অযোগ্য
যেন শূণ্যে বসবাস
যা অনূভূতির মাঝামাঝিতে
কয়েক মুহূর্ত স্থির কিন্তু সত্য ।।